Type Here to Get Search Results !

সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন ও উত্তর । একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, চতুর্থ অধ্যায় । Class 11, 2nd semester Political Science, Fourth Chapter

একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, চতুর্থ অধ্যায় সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ প্রশ্ন উত্তর | Class 11, 1st semester Political Science, Fourth Chapter । WBCHSE । Somosamoyik Varotiyo Rastro Chinta

শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের চতুর্থ অধ্যায় সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ নিয়ে। আশাকরি তোমরা একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টারের এই সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যায়টি থেকে যেসব প্রশ্ন দেওয়া আছে তা কমন পেয়ে যাবে। আমরা এখানে একাদশ শ্রেণীর, দ্বিতীয় সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের চতুর্থ অধ্যায় সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ এর SAQ, শূন্যস্থান পূরণ, এক কথায় উত্তর দাও, Descriptive, ব্যাখ্যা মুলক প্রশ্নোত্তর , সংক্ষিপ্ত নোট এগুলি দিয়েছি। এর পরেও তোমাদের এই সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যায়টি থেকে কোন অসুবিধা থাকলে, তোমরা আমাদের টেলিগ্রাম, হোয়াটসাপ , ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারো । 
সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন ও উত্তর । একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, চতুর্থ অধ্যায় । Class 11, 2nd semester Political Science, Fourth Chapter

UNIT 4 - সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন ও উত্তর 

১. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বাধীনতা সংগ্রামে আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তরঃ- 
ভূমিকা: 
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন অন্যতম প্রধান নেতা, যিনি স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে আজাদ হিন্দ ফৌজ (Indian National Army) গঠন করেছিলেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের মাধ্যমে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে একটি নতুন গতি এনে দিয়েছিলেন।

ব্যাখ্যা: 
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মনে করতেন যে, স্বাধীনতা শুধুমাত্র অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে না; সশস্ত্র সংগ্রামেরও প্রয়োজন রয়েছে। এই চিন্তাধারা থেকে তিনি ১৯৪৩ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন, যা ব্রিটিশ বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

আজাদ হিন্দ ফৌজের সদস্যরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ভারতের স্বাধীনতার জন্য একটি সশস্ত্র আন্দোলনের সূচনা করে। যদিও ফৌজের সাফল্য সীমিত ছিল, তবুও তাদের সাহস এবং আত্মত্যাগ ভারতীয় জনগণের মধ্যে গভীর দেশপ্রেমের সঞ্চার করে এবং - স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন প্রেরণা এনে দেয়। আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রচেষ্টা এবং নেতাজির নেতৃত্ব ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনের পতনের কারণগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপসংহার: 
আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে চিহ্নিত হয়ে আছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে গঠিত এই ফৌজ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং ভারতীয়দের মধ্যে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করেছিল।

২. মহাত্মা গান্ধির সত্যাগ্রহ নীতির মূল ধারণা কী এবং তা কীভাবে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রভাব ফেলেছিল?

উত্তরঃ- 
ভূমিকা: 
মহাত্মা গান্ধির সত্যাগ্রহ নীতি ছিল একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং সামাজিক দর্শন, যা সত্য এবং ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকার মাধ্যমেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার ধারণা প্রদান করে। এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে নতুন গতির সঞ্চয় করেছিল এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

ব্যাখ্যা: 
সত্যাগ্রহ নীতির মূল ধারণা হল সত্যের প্রতি অনুগত থেকে এবং অহিংস পদ্ধতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। গান্ধিজি বিশ্বাস করতেন যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অহিংসা এবং সত্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এই নীতি অনুসরণ করে তিনি ১৯১৯ সালে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে প্রথম সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন। এর পরে, ১৯৩০ সালে লবণ সত্যাগ্রহ এবং অন্যান্য বিভিন্ন আন্দোলনে সত্যাগ্রহ নীতির প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

এই নীতির মাধ্যমে গান্ধি ভারতীয় জনগণের মধ্যে অসহযোগ এবং অহিংস প্রতিরোধের প্রেরণা জাগ্রত করেন, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের রূপ নেয়। সত্যাগ্রহ আন্দোলনগুলির মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারকে ভারতীয়দের দাবির প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্য করা হয় এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আন্দোলনকেও সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

উপসংহার: 
মহাত্মা গান্ধির সত্যাগ্রহ নীতি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে এক নতুন দিক নির্দেশনা প্রদান করেছিল। এই নীতি অহিংসার শক্তি এবং সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। গান্ধিজির সত্যাগ্রহ ভারতীয় স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রয়ে গেছে।

৩. মৌলানা আবুল কালাম আজাদের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা কী ছিল এবং তা কীভাবে স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়েছিল?


ভূমিকা: 
মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি ধর্মনিরপেক্ষতা নীতিকে গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধারণা প্রতিফলিত হয় এবং তা দেশের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছিল।

ব্যাখ্যা: 
মৌলানা আজাদ বিশ্বাস করতেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতা হল একটি জাতির শান্তি এবং সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি। তিনি মনে করতেন, ধর্মনিরপেক্ষতার মাধ্যমে সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তার এই ধারণা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর, আজাদ ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি প্রবর্তন করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রভাব থাকবে না এবং প্রতিটি ছাত্রের মধ্যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক সম্মানের চর্চা করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই ধর্মনিরপেক্ষ নীতির মাধ্যমে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মীয় ভেদাভেদ মুক্ত হয়ে ওঠে এবং দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন সুসংহত হয়। এ ছাড়া, এই নীতি - শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষার প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

উপসংহার: 
মৌলানা আবুল কালাম আজাদের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর নেতৃত্বে প্রণীত ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছিল এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছিল।

৪. বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে শিক্ষা কীভাবে সমাজ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি ছিল?

উত্তরঃ- 
ভূমিকা: 
স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন মহান আধ্যাত্মিক নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন যে, শিক্ষা মানুষের মধ্যে আত্মশক্তি ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটায় এবং সমাজ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। তার মতে, সঠিক শিক্ষাই একটি সমাজের প্রকৃত উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে।

ব্যাখ্যা: 
বিবেকানন্দের মতে, শিক্ষার মূল হল মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, আত্মশক্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। তিনি মনে করতেন, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের একটি প্রক্রিয়া। তার মতে, শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার নিজস্ব সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

বিবেকানন্দ শিক্ষাব্যবস্থাকে সামাজিক পুনর্জাগরণের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসাম্য দূর করা সম্ভব এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়। তার দৃষ্টিতে, শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন, দরিদ্রদের উন্নয়ন এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে সমানাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

উপসংহার: 
বিবেকানন্দের মতে, শিক্ষা সমাজ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনা সম্ভব এবং এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজকে একটি উন্নত, সমানাধিকারভিত্তিক এবং ন্যায়বিচারপূর্ণ রূপ দেওয়া সম্ভব।

  • একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
  • একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার চতুর্থ অধ্যায় SAQ
  • একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান নতুন সিলেবাস দ্বিতীয় সেমিস্টার 
  • ক্লাস 11 রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায় 4 প্রশ্ন উত্তর
  • Class 11 Political Science New syllabus in bengali west bengal board
  • Class 11 2nd semester Political Science New syllabus WB


একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, চতুর্থ অধ্যায়, সমসাময়িক ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা: নির্বাচিত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ প্রশ্ন উত্তর | Class 11, 2nd semester, Fourth Chapter Somosamoyik Varotiyo Rastro Chinta Questions and Answers | Class XI, Semester II, Political Science, Fourth Chapter Questions and Answers 


Post a Comment

0 Comments

Top Post Ad

Below Post Ad