একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, তৃতীয় অধ্যায় সরকারের বিভিন্ন রূপ: সংজ্ঞা ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রশ্ন উত্তর | Class 11, 1st semester Political Science, Third Chapter । WBCHSE । Sorkarer Bivinno Rup
শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় অধ্যায় সরকারের বিভিন্ন রূপ: সংজ্ঞা ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে। আশাকরি তোমরা একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টারের এই সরকারের বিভিন্ন রূপ: সংজ্ঞা ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য অধ্যায়টি থেকে যেসব প্রশ্ন দেওয়া আছে তা কমন পেয়ে যাবে। আমরা এখানে একাদশ শ্রেণীর, দ্বিতীয় সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় অধ্যায় সরকারের বিভিন্ন রূপ: সংজ্ঞা ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য এর SAQ, শূন্যস্থান পূরণ, এক কথায় উত্তর দাও, Descriptive, ব্যাখ্যা মুলক প্রশ্নোত্তর , সংক্ষিপ্ত নোট এগুলি দিয়েছি। এর পরেও তোমাদের এই সরকারের বিভিন্ন রূপ: সংজ্ঞা ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য অধ্যায়টি থেকে কোন অসুবিধা থাকলে, তোমরা আমাদের টেলিগ্রাম, হোয়াটসাপ , ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারো ।
UNIT 3 - সরকারের বিভিন্ন রূপ: সংজ্ঞা ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন ও উত্তর
১. ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কাঠামো কী?
উত্তরঃ-
ভূমিকা:
ভারতের শাসনব্যবস্থা একটি সংসদীয় গণতন্ত্র, যা ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কাঠামো দেশের সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে এবং এটি দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হিসেবে কাজ করে।
ব্যাখ্যা:
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কাঠামো নিম্নলিখিতভাবে গঠিত-
দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ:
ভারতের সংসদ দুইটি কক্ষে বিভক্ত- লোকসভা (নিম্নকক্ষ) এবং রাজ্যসভা (উচ্চকক্ষ)। লোকসভা হল জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত, যেখানে রাজ্যসভা রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত। এই দ্বি-কক্ষ ব্যবস্থা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং আইন প্রণয়নে ভারসাম্য বজায় রাখে।
শাসন বিভাগ বা নির্বাহী শাখার প্রধান:
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু কার্যকরী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে, যিনি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়, যা শাসন বিভাগ বা নির্বাহী শাখার কাজ পরিচালনা করে এবং সংসদের প্রতি জবাবদিহি থাকে।
সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ:
ভারতের সংসদ আইন প্রণয়ন, সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামোতে সরকারের প্রতি সংসদের জবাবদিহি কার্য নিশ্চিত করা হয় এবং সংসদ সদস্যরা সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
নির্বাচন এবং প্রতিনিধিত্ব:
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করে। এই প্রতিনিধিরা সংসদে দেশের আইন প্রণয়ন এবং নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের শাসনের প্রতিফলন ঘটে এবং গণতন্ত্রের মূল নীতিগুলি বজায় থাকে।
উপসংহার:
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামো দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, শাসন বিভাগ বা নির্বাহী শাখার প্রধান, সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ, এবং নিয়মিত নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এই কাঠামো ভারতের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা, এবং শাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
২. সর্বাত্মকবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রধান সমালোচনাগুলি কী কী?
উত্তরঃ-
ভূমিকা:
সর্বাত্মকবাদী শাসনব্যবস্থা একটি কঠোর এবং নিরঙ্কুশ শাসনব্যবস্থা, যা সমাজে ভয়, দমন, এবং স্বাধীনতার অভাব সৃষ্টি করে। এই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা উঠে এসেছে, যা এর নেতিবাচক প্রভাব এবং অপব্যবহারের দিকগুলিকে নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা:
সর্বাত্মকবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রধান সমালোচনা- গুলি নিম্নরূপ-
স্বাধীনতার অভাব:
সর্বাত্মক শাসনব্যস্থায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে লুপ্ত থাকে। জনগণ শাসকগোষ্ঠীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু - করার অধিকার রাখে না এবং তাদের মতামত, চিন্তা, এবং আচরণের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকে। এর ফলে সমাজে স্বাধীনতার অভাব | সৃষ্টি হয়, যা মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সমতুল্য।
মানবাধিকার লঙ্ঘন:
সর্বাত্মক শাসনব্যস্থায় প্রায়শই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য জনগণের ওপর অত্যাচার করে, বিরোধী মতামত দমন করে, এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন চালায়। এই মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হয়েছে এবং সর্বাত্মক শাসনের একটি প্রধান ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিরোধীদের দমন:
সর্বাত্মক শাসনব্যস্থায় বিরোধীদের দমন করা হয় এবং শাসকগোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য যে-কোনো বিরোধী মতামতকে কঠোরভাবে দমন করে। এটি সমাজে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং মানুষের মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস পায়।
ক্ষমতার অপব্যবহার:
সর্বাত্মক শাসনব্যস্থায় কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার ফলে শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই ক্ষমতার অপব্যবহার করে। শাসক- গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং সমাজে অনৈতিক কার্যকলাপ চালায়। এই ক্ষমতার অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
উপসংহার:
সর্বাত্মকবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রধান সমালোচনাগুলি হল স্বাধীনতার অভাব, মানবাধিকার লঙ্ঘন, । বিরোধীদের দমন, এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। এই সমালোচনাগুলি সর্বাত্মক শাসনের নেতিবাচক দিকগুলিকে নির্দেশ করে এবং এর : প্রভাব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। সর্বাত্মক শাসনব্যবস্থা সাধারণত সমাজে ভয়, দমন, এবং অনৈতিকতার জন্ম দেয়, যা । মানুষের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতার পরিপন্থী।
৩. গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তরঃ-
ভূমিকা:
গণতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের ক্ষমতা সর্বোচ্চ। গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি জনগণের অধিকার, সমানাধিকার, এবং জনগণের শাসনের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
ব্যাখ্যা:
গণতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
জনগণের শাসন:
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল জনগণের শাসন। জনগণ বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে। জনগণের মতামত এবং ইচ্ছার ভিত্তিতে শাসনের নীতি ও আইন প্রণয়ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে, যারা সংসদে তাদের পক্ষে শাসন পরিচালনা করেন।
আইনের শাসন:
গণতন্ত্রে আইনের শাসন সর্বোচ্চ। এটি জনগণের অধিকার এবং স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। প্রত্যেক নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের অধীনে শাসিত হয়। আইন দ্বারা রক্ষা করা জনগণের অধিকারগুলি স্বাধীনতা, সাম্য এবং ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা:
গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল মত প্রকাশের স্বাধীনতা। জনগণ তাদের মতামত, চিন্তা, এবং বিশ্বাস স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যে অধিকার বলে * জনগণের মধ্যে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি করার পরিবেশ তৈরি করে।
নিয়মিত নির্বাচন:
গণতন্ত্রে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে । জনগণ তাদের শাসক বা প্রতিনিধিদের নির্বাচন করে। নির্বাচন হল । গণতন্ত্রের একটি মৌলিক প্রক্রিয়া, যা জনগণের শাসনের প্রতিফলন ঘটায়। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ইচ্ছা এবং মতাম ভিত্তিতে শাসক নির্বাচন করে এবং শাসককে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।
স্বাধীন বিচারব্যবস্থা:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচারব্যবস্থা শাসনের পৃথক শাখা হিসেবে কাজ করে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ন্যায়- বিচার নিশ্চিত করে। এটি জনগণের অধিকার এবং স্বাধীনতা রক্ষা করে এবং আইন অনুযায়ী শাসনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
উপসংহার:
গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি জনগণের শাসন, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিয়মিত নির্বাচন এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এই বৈশিষ্ট্যগুলি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা, এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। গণতন্ত্রের এই বৈশিষ্ট্যগুলি সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা, এবং সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়ক।