Type Here to Get Search Results !

জাতি ও জাতীয়তাবাদ অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন ও উত্তর । একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, দ্বিতীয় অধ্যায় । Class 11, 2nd semester Political Science, Second Chapter, Unit-2

একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, দ্বিতীয় অধ্যায় জাতি ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্ন উত্তর | Class 11, 1st semester Political Science, Second Chapter । WBCHSE । Jati o Jatiotabad

শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় জাতি ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে। আশাকরি তোমরা একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টারের এই জাতি ও জাতীয়তাবাদ অধ্যায়টি থেকে যেসব প্রশ্ন দেওয়া আছে তা কমন পেয়ে যাবে। আমরা এখানে একাদশ শ্রেণীর, দ্বিতীয় সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় জাতি ও জাতীয়তাবাদ এর SAQ, শূন্যস্থান পূরণ, এক কথায় উত্তর দাও, Descriptive, ব্যাখ্যা মুলক প্রশ্নোত্তর , সংক্ষিপ্ত নোট এগুলি দিয়েছি। এর পরেও তোমাদের এই জাতি ও জাতীয়তাবাদ অধ্যায়টি থেকে কোন অসুবিধা থাকলে, তোমরা আমাদের টেলিগ্রাম, হোয়াটসাপ , ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারো । 
জাতি ও জাতীয়তাবাদ অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন ও উত্তর । একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, দ্বিতীয় অধ্যায় । Class 11, 2nd semester Political Science, Second Chapter, Unit-2

UNIT 2 - জাতি ও জাতীয়তাবাদ অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন ও উত্তর 

১. অ্যান্ডারসনের মতে জাতিগুলি কী?

উত্তরঃ-
* অ্যান্ডারসনের মতে, জাতিগুলি সামাজিকভাবে নির্মিত সত্তা যা তাদের সদস্যদের একই প্রতীক, ভাষা এবং আখ্যান দ্বারা আবদ্ধ করে। তার মতে, জাতি হল একটি 'কাল্পনিক সম্প্রদায়', যেখানে মানুষরা নিজেদেরকে একই জাতির অংশ হিসেবে কল্পনা করে এবং সেই পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে ঐক্যবদ্ধ থাকে। অ্যান্ডারসন বিশ্বাস করতেন যে, জাতীয় পরিচয় ভাষা, সাহিত্য এবং অন্যান্য সামাজিক উপাদানের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। জাতির এই ধারণা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে জাতীয়তাবাদ কী ক্ষতি করে?

উত্তরঃ-
* রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, জাতীয়তাবাদ মানুষের প্রকৃত পরিচয় এবং মানসিক বিকাশকে বাধা দেয়। তিনি মনে করতেন যে, সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ মানুষকে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করে। রবীন্দ্রনাথের মতে, জাতীয়তাবাদ মানসিকতা সংকুচিত করে এবং মানবজাতির সার্বিক ঐক্যের বিরুদ্ধে কাজ করে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বিশ্বমানবতার ধারণাই প্রকৃত স্বাধীনতা ও মানসিক মুক্তির পথ দেখাতে পারে। সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে মানুষের মানসিক বিকাশ ও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ক্ষতিকারক।

৩.  ভাষার ভূমিকা কী?

উত্তরঃ-
◆ ভাষা একটি জাতির প্রধান পরিচায়ক এবং জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। ভাষার মাধ্যমে মানুষ তাদের ভাবনা, অনুভূতি ও সংস্কৃতি প্রকাশ করে। একটি জাতির মানুষ তাদের ভাষার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং যোগাযোগ স্থাপন করে। ভাষা জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে কাজ করে, যা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাষার ভিত্তিতে জাতীয় আন্দোলন এবং স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত হতে  পারে, যা জাতির অগ্রগতিতে সহায়ক।

৪. স্পিনোজা কী প্রস্তাব করেছিলেন?

উত্তরঃ-
◆ স্পিনোজা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের নীতির ওপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক সমাজ গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। তার মতে, একটি রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বাধীনতা এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থায় কর্তৃত্বের অপব্যবহার রোধ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি। স্পিনোজা ন্যায়বিচার ও সামাজিক সমতার পক্ষে ছিলেন এবং মনে করতেন যে, একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজই শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে পারে।

৫. জাতীয়তাবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তরঃ-
◆ জাতীয়তাবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন। জাতীয়তাবাদ সাধারণত জাতির মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন পরিচয় এবং সংহতির বোধ তৈরি করে। এটি তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একত্রিত করে এবং বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করে। জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন এবং স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্য রক্ষা করাও জাতীয়তাবাদের একটি প্রধান লক্ষ্য।


৬. হান্না আরেন্ডট কোন বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ-
◆ হান্না আরেন্ডট গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা রক্ষা এবং মানুষের মর্যাদার সুরক্ষা নিয়ে জোর দিয়েছিলেন। তার মতে, গণতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা করা হয় এবং যেখানে মানুষের মর্যাদার ক্ষয়সাধন করা যায় না। তিনি মনে করতেন যে, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়। আরেন্ডটের দৃষ্টিতে, গণতন্ত্র মানবাধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ এবং এটি সুষ্ঠু সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে অপরিহার্য।

৭. ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ কী?

উত্তরঃ-
◆ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ হল একটি জাতির ধর্মীয় পরিচিতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদ, যেখানে ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য প্রধান ভূমিকা পালন করে।। এই জাতীয়তাবাদ ধর্মীয় ঐক্যকে উচ্চে তুলে ধরে এবং জাতির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং তার রক্ষা ও প্রসারের জন্য কাজ করে। তবে অতিরিক্ত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ অন্যান্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতা হ্রাস করতে পারে এবং সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।


৮. জাতীয়তাবাদের প্রভাব কী?

উত্তরঃ-
◇ জাতীয়তাবাদ একটি জাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রেরণা জোগায় এবং রাজনৈতিক আন্দোলন ও বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন আনে। জাতীয়তাবাদ সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং জাতীয় পরিচয় রক্ষা করতে সহায়ক। এটি জাতির মানুষদের মধ্যে সংহতি সৃষ্টি করে এবং তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করে। তবে অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদ বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার উৎস হতে পারে।

৯. প্রাদেশিক জাতীয়তাবাদ কী?

উত্তরঃ-
◆ প্রাদেশিক জাতীয়তাবাদ হল একটি নির্দিষ্ট প্রদেশ বা অঞ্চলের প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভালোবাসা, যা সাধারণত ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এই জাতীয়তাবাদ একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মানুষদের মধ্যে সংহতি সৃষ্টি করে এবং তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করতে সাহায্য করে। প্রাদেশিক জাতীয়তাবাদ সাধারণত বৃহত্তর জাতীয় পরিচয়ের অংশ হলেও, এটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলতে পারে। তবে অতিরিক্ত প্রাদেশিক জাতীয়তাবাদ জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল?

উত্তরঃ-
◇ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয়তাবাদকে সংকীর্ণ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। তার মতে, জাতীয়তাবাদ মানুষের প্রকৃত স্বার্থ ও সহযোগিতার সম্পর্ককে ধ্বংস করে এবং মানুষকে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জাতীয়তাবাদ মানবজাতির সর্বজনীন ঐক্য এবং শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করে। রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে জাতীয়তাবাদ মানুষের মানসিক বিকাশ এবং প্রকৃত স্বাধীনতার পথে অন্তরায়। তিনি বিশ্বমানবতার ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করেছিলেন।

১১. জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ-
জাতীয় ঐক্য একটি জাতির মধ্যে একতা, সংহতি এবং সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি জাতি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়। ঐক্যবদ্ধ জাতি একটি দেশের সার্বিক উন্নতি এবং কল্যাণে সহায়ক হয়। জাতীয় ঐক্য জনগণকে অভিন্ন স্বার্থে একত্রিত করে এবং তাদের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। জাতীয় ঐক্যবদ্ধ জনগণ যে-কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হয় এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও সফলভাবে লড়াই করতে পারে। 

১২.  হার্ডার জাতির পরিচয় গঠনে কীসের ওপর জোর দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ-
◆ হার্ডার জাতির পরিচয় গঠনে জনগণ ও সংস্কৃতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তার মতে, একটি জাতির পরিচয় গড়ে ওঠে তাদের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা এবং ঐতিহ্যের মাধ্যমে। হার্ডার বিশ্বাস করতেন যে, একটি জাতির সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য তাদের মানসিক ও সামাজিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের সমর্থক ছিলেন এবং জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বকে তুলে ধরেছিলেন। হার্ডারের মতে, সংস্কৃতি জাতির ঐক্য ও সংহতির মূল ভিত্তি।


১৩. জাতীয়তাবাদের নেতিবাচক প্রভাব কী?

উত্তরঃ-
◆ অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদ সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। জাতিগত সংঘর্ষ, ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা জাতীয়তাবাদের নেতিবাচক প্রভাবগুলির মধ্যে অন্যতম। অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদ মানুষকে তাদের জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করে এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মান কমিয়ে দেয়। এটি সামাজিক সংহতি ও শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সংঘাত ও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। তাই, সংযত ও সাম্যবাদী জাতীয়তাবাদ সমাজের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 19.

১৪. ভূখণ্ডের গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ-
◆ ভূখণ্ড একটি জাতির সার্বভৌমত্ব এবং এক্তিয়ারের প্রতীক, যা তাদের ভৌমস্থিতি ও স্বাধীনতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। একটি জাতি তাদের ভূখণ্ডে স্বাধীনভাবে বসবাস ও শাসন পরিচালনা করতে সক্ষম হলে তবেই তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ভূখণ্ড জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারালে একটি জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

১৫. রেনানের মতে জাতিগুলি কীভাবে গঠিত হয়?


উত্তরঃ-
◆ রেনানের মতে, জাতিগুলি গঠিত হয় অভিন্ন ইতিহাসের অনুভূতি, সম্মিলিত স্মৃতি এবং একসঙ্গে থাকার ইচ্ছার ভিত্তিতে। তার মতে, জাতি কোনো নির্দিষ্ট ভাষা, ধর্ম বা জাতিগত গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি মানুষদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ইচ্ছার একটি প্রকাশ। জাতির মানুষরা যখন অভিন্ন ইতিহাস, সংগ্রাম এবং : সাফল্যের স্মৃতিতে একত্রিত হয়, তখন তারা একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রেনানের দৃষ্টিতে, জাতির ভিত্তি হল মানুষের ঐক্যবদ্ধ ইচ্ছা এবং তাদের অভিন্ন স্মৃতি ও সংগ্রামের অনুভূতি।

১৬. জাতিগত জাতীয়তাবাদ কী?

উত্তরঃ-
◇ জাতিগত জাতীয়তাবাদ একটি নির্দিষ্ট জাতি বা জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যা সাধারণত তাদের জাতিগত, ভাষাগত বা সাংস্কৃতিক মিলের ওপর নির্ভর করে। এই ধরনের জাতীয়তাবাদ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়কে উচ্চে তুলে ধরে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করার প্রয়াস চালায়। জাতিগত জাতীয়তাবাদ প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে। তবে অতিরিক্ত জাতিগত জাতীয়তাবাদ সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও বিভাজনের সৃষ্টি করতে পারে, যা সমাজের অগ্রগতিকে বাধা দেয়।

১৭. জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ কী?

উত্তরঃ-
◆ জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ হল একটি নীতি যা একটি জাতিকে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের অধিকার প্রদান করে, বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই। এই নীতির মাধ্যমে একটি জাতি তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ একটি জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান দাবি হয়ে ওঠে। এই ধারণা আন্তর্জাতিক আইন ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি জাতির স্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে।

১৮. নাগরিক জাতীয়তাবাদ কী?

উত্তরঃ-
◆ নাগরিক জাতীয়তাবাদ হল এমন এক ধরনের জাতীয়তাবাদ যা জাতির পরিচয় নির্ধারণ করে তার নাগরিকদের সম্মিলিত ইচ্ছার ভিত্তিতে। এটি জাতিগত বা ধর্মীয় ভিত্তির ওপর নয়, বরং নাগরিকত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এই জাতীয়তাবাদ ব্যক্তি অধিকার ও স্বাধীনতার গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং সকল নাগরিকের সমানতা নিশ্চিত করে। নাগরিক জাতীয়তাবাদ সাধারণত গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং সমতাভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। এটি বহুজাতি বা বহু-ধর্মীয় রাষ্ট্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।


১৯. জাতীয়তাবাদ কীভাবে একটি জাতির পরিচিতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সহায়ক?

উত্তরঃ- 
ভূমিকা: 
জাতীয়তাবাদ একটি শক্তিশালী মতবাদ যা একটি জাতির সাংস্কৃতিক, ভাষাগত, এবং ঐতিহাসিক উপাদানগুলিকে সংরক্ষণ এবং প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি জাতির মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং তাদের ঐতিহ্য এবং পরিচয়কে বজায় রাখতে সাহায্য করে। জাতীয়তাবাদ শুধুমাত্র - একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, এটি একটি জাতির সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি যা তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে রক্ষা এবং সংরক্ষণ করার জন্য উৎসাহিত করে।

* ব্যাখ্যা: 
জাতীয়তাবাদ একটি জাতির পরিচয় এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে ভূমিকা রাখে।

প্রথমত, 
জাতীয়তাবাদ মানুষকে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, এবং ঐতিহ্যের প্রতি গর্বিত করে তোলে। এই গর্ব এবং ভালোবাসা মানুষকে তাদের পূর্বপুরুষের রীতিনীতি এবং আচার-অনুষ্ঠান- গুলোকে সম্মান করতে এবং তা সংরক্ষণ করতে উৎসাহিত করে। উদাহরণস্বরূপ-বাংলায় পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন, দুর্গাপূজা, এবং রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিফলন। এসব অনুষ্ঠান শুধু উৎসবের আনন্দই নয়, বরং সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যম।

দ্বিতীয়ত, 
জাতীয়তাবাদ জনগণের মধ্যে একটি সাধারণ জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তোলে। এটি একটি জাতির লোকদের মধ্যে সংহতি এবং ঐক্যবদ্ধতার অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা তাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই একত্রীকৃত পরিচয় মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে এবং তাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে উৎসাহিত করে।

তৃতীয়ত, 
জাতীয়তাবাদ সরকার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে একটি জাতির ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ এবং প্রচারে উৎসাহিত করে। উদাহরণস্বরূপ-বিভিন্ন জাতীয় উৎসবের সরকারি সমর্থন, ঐতিহাসিক স্থানগুলির সংরক্ষণ, এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ জাতির ঐতিহ্য এবং পরিচয় সংরক্ষণে সহায়ক হয়। এ ছাড়া, শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতীয় ইতিহাস এবং সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা নতুন প্রজন্মকে তাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং তাদের মধ্যে গর্ব এবং দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে। 

একটি উদাহরণ হিসেবে, 
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ভাষা আন্দোলনকে বলা যেতে পারে। এসব ঘটনাবলি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মূলে রয়েছে, যা দেশের পরিচয় এবং ঐতিহ্য রক্ষায় একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। ভাষা আন্দোলন দেশের ভাষাগত ঐতিহ্য রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম ছিল, যা পরবর্তীতে দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামও একটি জাতির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং পরিচয় রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।

উপসংহার: 
জাতীয়তাবাদ একটি জাতির পরিচয় এবং ঐতিহ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি জাতির লোকদের মধ্যে গর্ব, ঐক্য, এবং সংহতি সৃষ্টি করে এবং তাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রক্ষা করতে উৎসাহিত করে। জাতীয়তাবাদ শুধু একটি রাজনৈতিক মতবাদ নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি, যা তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং ভাষার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। এটি একটিজাতির লোকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ এবং গর্ব জাগিয়ে তোলে, যা তাদের ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে সহায়ক হয়।

২০. জাতি বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ-
◆ জাতি বলতে একটি ভৌগোলিক এলাকার মানুষের সমষ্টিকে বোঝায়, যারা একই ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, ইতিহাস এবং ঐতিহ্য অনুসরণ করে। এটি একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, যা অভিন্ন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং মানসিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। জাতির মানুষ সাধারণত একে অপরের প্রতি গভীর সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য অনুভব করে। জাতির ধারণা তাদের নিজস্ব পরিচয় ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি নিয়ে উঠে আসে। এভাবেই জাতি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

২১. জাতীয়তাবাদ কী?

উত্তরঃ-
◆ জাতীয়তাবাদ হল একটি জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, আনুগত্য ও শ্রদ্ধার অনুভূতি, যা সেই জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। জাতীয়তাবাদ সাধারণত জাতির মানুষদের মধ্যে সংহতি সৃষ্টি করে এবং তাদের ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এটি রাজনৈতিক আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয়তাবাদ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং জাতীয় পরিচয়ের বিকাশেও সহায়ক হয়। তবে অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদ সমাজে বিভাজন ও সংঘাতের কারণ হতে পারে।

  • একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
  • একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার দ্বিতীয় অধ্যায় SAQ
  • একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান নতুন সিলেবাস দ্বিতীয় সেমিস্টার 
  • ক্লাস 11 রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায় 2 প্রশ্ন উত্তর
  • Class 11 Political Science New syllabus in bengali west bengal board
  • Class 11 2nd semester Political Science New syllabus WB


একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার, দ্বিতীয় অধ্যায়, জাতি ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্ন উত্তর | Class 11, 2nd semester, Second Chapter Jati o Jatiotabad Questions and Answers | Class XI, Semester II, Political Science, Second Chapter Questions and Answers 


Post a Comment

0 Comments

Top Post Ad

Below Post Ad